৪২ লাখ টাকা খরচ কর‌লেই রাত কাটা‌নো যা‌বে পা‌নির নিচে

পৃথিবীর প্রথম আন্ডারওয়াটার আবাসিক হোটেল বলা হয় দ্য মুরাকা হোটেলকে। এটি পর্যটন প্রতিষ্ঠান কনরাড মালদ্বীপ রাঙ্গেলী আইল্যান্ডের মালিকানাধীন একটি স্থাপনা। ২০১৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। দ্য মুরাকা নির্মাণের সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। এটির নির্মাণ করতে খরচ হয়েছিল ১৫ বিলিয়ন মা’র্কিন ডলার। এটি সমুদ্রের ১৬ দশমিক পাঁচ ফিট গভীরতায় অবস্থিত। পৃথিবীর প্রথম আন্ডারওয়াটার আবাসিক হোটেল বলা হয় দ্য মুরাকা হোটেলকে

পানির নিচে যে কোনো কাঠামো স্থাপন করা যথে’ষ্ট চ্যালেঞ্জিং। আর এই কাজটিকে সহজ করেছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মাইকেল মা’রফি। হোটেলটি স্থাপন করতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০টি শক্তিশালী স্টিলের পাইপ। সমুদ্রের নিচে প্রায় সব ধরনের সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখেই এটির শক্তিশালী পাইপগু’লো স্থাপন করা হয়েছে। পুরো ৬০০ টনের এই স্থাপনাটি সিঙ্গাপুরে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে জাহাজে করে তা মালদ্বীপে পাঠিয়ে দেয়া হয়। শক্তিশালী ট্রেনের সাহায্য নিয়ে এটিকে পানির নিচে স্থাপন করা হয়। শক্তিশালী ট্রেনের সাহায্য নিয়ে এই হোটেলটিকে পানির নিচে স্থাপন করা হয়

মূল স্থাপনা নকশা করেছেন আর্কিটেকচার আহমেদ সেলিম। ভিতরের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ করেছেন ইউজি ইয়ামাজাকি। দুই ফ্লোর বিশি’ষ্ট হোটেলটির নিচের ফ্লোরে আছে একটি ইন্টিগ্রে’টেড লিভিং রুম, ডাইনিং স্পেস, কিচেন, ওয়াশরুমসহ একটি মাস্টার বেডরুম। উপরের ফ্লোরে আছে একটি ইনফিনিটি পুল। চারটি বিছানা এবং সূর্যোদয় দেখার ব্যবস্থা। সঙ্গে রয়েছে একটি জিম। মূল স্থাপনা নকশা করেছেন আর্কিটেকচার আহমেদ সেলিম

উপর থেকে নিচের ফ্লোরে চলাচলের জন্য রয়েছে একটি প্যাঁচানো সিঁড়ি। রয়েছে লিফটের সুবিধাও। একটি বিলাসবহুল হোটেলে যে ধরনের সুবিধা থাকার কথা তার সবই রয়েছে দ্য মুরাকাতে। পুরো এয়ারকন্ডিশনড হোটেলটিতে রয়েছে ওয়াইফাই সুবিধা। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ এবং ডিজিটাল টেম্পারেচারের কন্ট্রোলিং সিস্টেম। হোটেলটির বেডরুমের সিলিং-এ ব্যবহার করা হয়েছে ১৮০ ডিগ্রি কার্ভের এক্রা’ইলিক ডুম। যা দিয়ে পুরো সাগরের তলদেশ একেবারেই দেখা সম্ভব। রুমগু’লো ছিদ্র হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে যাব’ে, এমন ভ’য় নেই

এক্রা’ইলিক সিলিংগু’লো আট’ ইঞ্চির মতো পু’রু। রুমগু’লো ছিদ্র হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে যাব’ে, এমন ভ’য় নেই। কারণ এতে ব্যবহার করা হয়েছে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির মেরিন সিল্যান্ট, যেগু’লো সমুদ্রের লোনা পানিতে টিকে থাকতে পারে বছরের পর বছর। দ্য মুরাকার বেডরুমে শুয়ে যে কেউ ভাবতেই পারে সে যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের নিচে শুয়ে আছে। অক্সিজেন লেভেল মনিটর করার জন্য আছে বিশেষ ধরনের ঘড়ি। আছে এমা’রজেন্সি এক্সিট, যে কোনো অঘটন ঘটলে সহজেই বের হয়ে আসা যায়।

পুরো হোটেলটি বানানো হয়েছে মেরিন ইকোলজির কথা মাথায় রেখে। স্থাপনাটির কারণে মেরিন ইকোলজির খুব বেশি ক্ষ’তি যেন না হয়, সেজন্য মেরিন বাইলজিস্টটদের পরামর’্শ নেয়া হয়েছে। এমনকি যারা হোটেলটি ভ্রমণ করতে চায়, তারা চাইলে নিজের নামে একটি কোরাল প্রবাল সমুদ্রের তলদেশে রেখে আসতে পারবে। কোরালের উপর ব্যক্তির নাম লেখা থাকবে। হোটেলটিতে থাকার সময় আপনি প্রায় সব ধরনের খাবারই খেতে পারবেন। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত শেফও নিয়ে যেতে পারবেন সেখানে।

হোটেলটিতে থাকার সময় আপনি প্রায় সব ধরনের খাবারই খেতে পারবেন। একদিন থাকার জন্য খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার মা’র্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৩ টাকা। এই দামের মধ্যেই আপনি পাবেন সমুদ্রের নিচে ভ্রমণ করার সুবিধা। প্রাইভেট স্পিডবোটে সাগর ঘুরে বেড়ানো, প্রতিদিন ৯০ মিনিটের স্পা ট্রিটমেন্টসহ নিজের পছন্দ মতো সব খাবার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *