স্বপ্নেও ভাবিনি এমন ঘরে রাত কাটাব

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ও অনন্য কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত মানুষের জীবনমান বদলে যেতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নেও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েছে সরকার।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩০ পরিবার পাচ্ছেন সেমিপাকা ঘর। এরই মধ্যে অনেকে নতুন ঘরে উঠেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্বাহী সেলের তত্ত্বাবধানে সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ইউএনও ফারুক আল মাসুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক।

জানা গেছে, উপজেলা কাংশা, নলকুড়া, গৌরিপুর, ধানশাইল ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩০টি অবহেলিত পরিবারের নিজস্ব জমিতে নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে একটি সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের সেমিপাকা ঘর।

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ নামের প্রকল্পের মডেলে আদিবাসীদের জন্য এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে থাকছে দুটি করে শোয়ার কক্ষ, একটি রান্নার কক্ষ, একটি টয়লেট ও বারান্দা। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। এরই মধ্যে ২০টি ঘরের কাজ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং ১০টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে।

গৃহ নির্মাণের ওই সব কাজ তদারকি করছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি সমতলের আদিবাসী পরিবারগু’লোর পু’রুষ ও নারীদের আ’ত্মনির্ভরশীল করতে তাঁত ও বাঁশের কাজ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন কারিগরি প্র’শিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বৃত্তি কিংবা উপবৃত্তি এবং শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে।

নলকুড়া ইউপির রাংটিয়া গ্রামের বৃ’দ্ধা রীতা কোচ বলেন, ‘স্বামী মা’রা গেছে অনেক আগেই। কোনো রকম একটা ভাঙা ঘরে রাত্রি যাপন করতাম। স্বপ্নেও ভাবিনি এমন ঘরে রাত কা’টাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমা’রে ঘর দিয়েছেন। প্রার্থনা করি, তিনি সবসময় সুস্থ থাকুক ও তার দীর্ঘায়ু দান করেন।’

রীতা কোচের মত ধীরেশ কোচ, সেবাসতীন হাগিদক, নিরপতি কোচ, অঞ্জলি কোচসহ ৩০টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত।

উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেরার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মি. নবেশ খকসি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন উদ্যোগ আমা’দের জন্য নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। তার অবদানে এখন অনেকটাই নিশ্চিন্তে জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছি। আদিবাসীদের জীবনমানের এই উন্নয়ন কার্যক্রম আগামীতেও অব্যা’হত রাখার জন্য দাবি জানান।

ইউএনও ফারুক আল মাসুদ বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এ উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩০টি পরিবারকে একটি করে সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অন্য ১০টি ঘরের নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *